Modhur Upokarita মধু খাওয়ার উপকারিতা নিয়ম সময় Honey Benefits

প্রাচীন সময় থেকেই মধু আমাদের খাদ্য ও পানীয় হিসেবে ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে শুধু আমাদের দেশেই নয় বিদেশেও মধুর ব্যবহার প্রচুর। চীন সহ এশিয়ার বহু দেশরই সকাল শুরু হয় মধুর হাত ধরে অর্থাৎ প্রাতরাশের তালিকায় থাকে মধু। আয়ুর্বেদে মধুকে চমৎকারি ঔষধি হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। মধুর ঔষধিগুণ থেকে অনেক প্রকার রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অতএব মধু রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এককথায় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মধুকে মহৌওষধ বলা হয়।

Modhur-upokarita-মধু-খাওয়ার-উপকারিতা

মধু এমন এক জিনিস যা খেতে সুস্বাদু হওয়ার সাথেও রোগ নিরাময়েও কার্যকরী। মধুর হলুদ ও ঘন পদার্থে এমন অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক লাভদায়ক। কারণ মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে।

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, মধুতে ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-সি ছাড়াও ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে। শুধু তাই নয়, মধুতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আপনার ইমিউনিটি সিস্টেম কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তাছাড়া মধু আপনার শরীরে ভরপুর এনার্জি দেওয়ার কাজ করে এবং মধু চোখে কম দেখা, ছানি পড়া ইত্যাদি দূর করে। মধুতে থাকা অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান যা শরীরের দৈনন্দিন সমস্যাতেও কার্যকরী। মধু শরীরকে ডিট্রোক্স রাখতে সহায়তা করে। মধু মানবদেহে পর্যায়ক্রমে 45 টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করে

মধুর উপাদান গুলো কি কি – Ingredients of honey

এখন আমরা এক নজরে দেখে নেবো মধুতে কি কি উপাদান থাকে এবং কি কারনে মধুকে স্বাস্থ্য রক্ষায় মহাঔষধি বলে অভিহিত করা হয়.

  • ২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ অ্যালডেহেক্সোজ
  • ৩৪ থেকে ২৪ শতাংশ লেভুলোজ
  • ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ
  • ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ
  • ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ
  • ৫ থেকে ১২ শতাংশ কোলাজ
  • ২০ থেকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড
  • ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ
  • ১০ থেকে ১১ শতাংশ এনকাইম

মধুতে ম্যাক্রোমলিকিউল বা চর্বি থাকে না। ১০০ গ্রাম মধুর তাপ মূল্য ২৭০ ক্যালোরি সম্পর্কিত। মধুতে পারমাণবিক সংখ্যা ৩০। আর একটি প্রয়োজনীয় তথ্য হলো যে মধুতে কোন স্টেরল থাকে না।

মধুর উপকারিতা Benefits of eating honey

প্রাচীনকাল থেকেই মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নানা শক্তি বর্ধক ঔষধ হিসাবে এবং বিভিন্ন ভাবে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের কাছে মধু একটি সুস্বাদু ও উপকারী উপাদান ও সু স্বাস্থের জন্য মধুর উপকারিতা অপরিসীম। তাই আজ আমরা জানবো মধু খাওয়ার উপকারিতা।
চলুন জেনে নেওয়া যাক,মধু খেলে আমাদের শরীরে কি কি লাভ হবে

১. রক্তশূন্যতায় মধুর ব্যবহার. Use of honey in anemia
রক্তশূন্যতা রোগীদের জন্য রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে অত্যন্ত সহায়ক হিসাবে কাজ করে মধু।কারণ মধুতে খুব বেশি পরিমাণে কপার থাকে যা রক্তশূন্যতা রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হিসাবে কাজ করে।মধু শরীরের রক্ত কে শুদ্ধ রাখে।

২. মানসিক চাপ. To relieve stress
বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসারে মধুতে এন্টিডিপ্রেশন প্রভাব থাকে যা ডিপ্রেশন ও মানসিক চাপকে দূর করতে সাহায্য করে।যদি আপনার মানসিক চাপ বেড়ে যায় তাহলে মধু খাওয়া উচিত।মধুর সেবন আপনার মেজাজ কে শান্ত রাখবে।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধে মধু. Honey for cancer prevention
মধুতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা টিউমারকে বাধা দেয় ও ক্যান্সারের কোষগুলিকে বিনাশ করে এবং কোষকে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।এছাড়া মধু সেবন করলে পেটের ক্যান্সার দূর হয়।

৪. ফুসফুস ও হাঁপানি নিরাময়ে. Honey to cure lung and asthma
হাঁপানি বা অ্যাজমা দূর করতে ও ফুসফুস সুস্থ রাখতে মধু খুব উপকারী। তবে আয়ুর্বেদে বলা হয় এক্ষেত্রে পুরাতন মধু বেশি কার্যকর। ফুসফুসের যাবতীয় রোগের চিকিৎসার জন্য প্রধান ওষুধ হল মধু। মধু ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। অ্যাজমা রোগীর হাঁপানি হলে মধু খাওয়ান অথবা মধুর ঘ্রাণ নেওয়ার সাথে সাথেই হাঁপানি দূর হবে।

৫. ত্বকের সমস্যা দূর করতে মধু. To eliminate skin problems
মধু জীবাণুরোধক গুণের কারণে ত্বক কে পরিষ্কার ও মসৃণ রাখতে সহায়ক।মধু ত্বকের যাবতীয় জীবাণু ও ময়লা পরিষ্কার করে দেয়। লেবুর সাথে মধু ব্যবহার করলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে মধু ও রক্ত চলাচল উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয় যাতে শরীরের বাহ্যিক দিকও পরিষ্কার থাকে। তাছাড়া এলার্জির সমস্যাতেও মধুর ব্যবহার উপকারী।মধু ত্বকের সব সমস্যাতেই কার্যকরী।

Honey to relieve skin problems in bengali

শুধু তাই নয়, মধু এক্সিমা, লালচে দাগ ইত্যাদি সমস্যার চিকিৎসায় অনেকখানি উপকারী। চেহারার কালো ছোপ, ব্রন, গর্ত দূর করতেও মধু প্রভাবশালী রূপে কাজ করে। মধুতে থাকা অ্যান্টিসেপটিক,অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের পুড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়া, ঘা ইত্যাদি ক্ষত জায়গায় মধুর সাথে হলুদের প্রলেপ দিলে তা ভালো হয়ে যায়। তাছাড়া মধুর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান পুড়ে যাওয়ার দাগকেও নিরাময় করে দেয়। এছাড়াও ত্বকে মধুর প্রলেপ দিলে ত্বক অনেকটাই উজ্জ্বল ও জীবাণুমুক্ত হয়।

৬. মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষায়. Protect mouth cavity
দাঁতের ক্ষয় রোধ, রক্ত জমাটবাঁধা, দাঁত পড়ে যাওয়া ইত্যাদি রোধের জন্য মধু প্রচুর ব্যবহৃত হয়। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দাঁতের উপর প্রয়োগ মধু করলে দাঁত ক্ষয় ও দাঁতের ব্যথা রোধ হয়। মধু রক্তনালীকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়িকে সুস্থ রাখে। তাছাড়া মুখের গহ্বরে গর্ত সৃষ্টি হওয়া ও মুখে প্রচুর প্রদাহ হলে প্রতিদিন মধু মিশ্রিত জল দিয়ে গড়গড়া করলে তা অনেকটাই কমে যায়।

৭. পাকস্থলী সুস্থ রাখতে. To keep the stomach healthy
হজমের গন্ডগোল থাকলে মধু খান। মধু পাকস্থলীর কাজ কে আরো মসৃণ ও দ্বিগুন করে তোলে। মধু খাওয়ার ফলে হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণ কমে যায় যার ফলে আমাদের বুক জ্বালা, অরুচি, বমি বমি ভাব দূর হয়। তাছাড়া মধু খেলে আমাদের শরীরে বদহজম হওয়ার কারণে উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্যাস দূর হয়ে যায় এবং মধু গ্লাইকোজেনের লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে।

৮. কাশি ও গলার সংক্রমণ. Cough and throat infections
কাশি ও গলার সংক্রমনের জন্য মধু একটা ওষুধ বলে মনে করা হয়। মধুতে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা কাশির সঙ্গে লড়াই করে। তাছাড়া গরম জলের সাথে মধু মিশিয়ে গড়গড়া করার ফলে গলার সমস্যা দূর হয়। ঠাণ্ডাজনিত রোগে মধু বিশেষ উপকারী।

৯. ওজন কমাতে মধুর ব্যবহার. Use honey to lose weight
মধু এক প্রাকৃতিক মিষ্টি পদার্থ। মধুতে অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন ও খনিজ থাকে যা কোলেস্টেরল ও ফ্যাট এর অবসানে সাহায্য করে, যাতে ওজন কমানো যেতে পারে।

ওজন কমাতে মধুর ব্যবহার

সকালে খালি পেটে মধু ও গরম জল একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে অনেকটাই ফল পাবেন। মধু মেটাবলিজম বাড়ায় যাতে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে দেয় ফলে গরম জলে মধু খাওয়ার উপকারিতা অনেক যা আপনার শরীরের ওজন কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে।

১০. হৃদরোগ. Heart disease
মধু শরীরে তাপ বাড়াতে এবং রক্ত সঞ্চালনকে সুস্থ ও ঐতিহ্যবাহী করে তুলতে বিশেষ সাহায্য করে। ফলে এটি হৃদপিন্ডের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং হৃদপিন্ডের ক্ষমতা বাড়ায়। মধু নিয়মিত এক চামচ করে খেলে হৃদপিন্ডের কাজ সহজ রূপে চলতে থাকে। এছাড়া মধু খাওয়ার কারণে আপনি হৃদরোগের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকবেন।

১১. পেশি শক্তিশালী করতে. To strengthen the muscles
মধুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান গুলি শরীরের পেশীগুলি কে কার্যকর হিসাবে শক্তিশালী করে তোলে। এটি অতিরিক্তভাবে শরীরের ক্ষমতা বাড়ায় এবং যারা ডায়েট করছেন তাদের জন্যেও মধু খুব উপকারী।

১২. অনিদ্রা দূর করতে মধু. Use honey to relieve insomnia
ঘুমোনোর আগে এক গ্লাস গরম জলের সাথে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খেলে আপনি গভীর ঘুম পাবেন এবং আপনার ঘুমের সমস্যা দূর হবে। আর যে বাচ্চাদের আপার রেসপেরেটরি ডিজিস থাকে তাদের গরম জলে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে মুক্তি পাওয়া যাবে ও ঘুম ভালো হবে।

মধু খাওয়ার নিয়ম ও সময় Rules and times of eating honey

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মধুকে যেমন মহৌষধ বলে গণ্য করা হয়েছে তেমনি কিন্তু মধু খাওয়ার কিছু পদ্ধতি ও নিয়মাবলিও বলা আছে। সঠিক পদ্ধতিতে মধু সেবন করলে এই মিষ্টত্ব জিনিসই রোগ নিরাময়ে কার্যকরী হবে।

Rules and times of eating honey

সঠিক নিয়মে মধু খেলে আপনি যেমন ভীষণ উপকার পাবেন তেমনি ভুল নিয়মে মধু সেবন করলে দেখা দিতে পারে নানান জটিলতা। তাই মধু খাওয়ার যে আয়ুর্বেদিক নিয়ম গুলি আছে তা আমরা জেনে নেব-

১. আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে মধু একটি গরম পদার্থ তাই মধুকে কখনো গরম করে খাবেন না।
২. মধুকে মশলা বা কোন রান্নায় মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
৩. মধুকে ফার্মান্টেড পদার্থ যেমন, মাদক দ্রব্য কোলড্রিংস, ঘি ও সর্ষের মতো জিনিসে মিশিয়ে খাওয়া ঠিক না এতে কিডনি, লিভার এর উপর খারাপ প্রভাব পড়ে।
৪. মাছ মাংসের সাথে মধুর ব্যবহার করা কখনোই উচিৎ নয়।
৫. গরম চা ও ঠান্ডা দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাবেন।
৬. যখনই মধু খাবেন মধু মুখে নিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড মুখে রাখুন তারপর ঘিটবেন।
৭. আয়ুর্বেদ অনুযায়ী দিনে ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম এবং রাতে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম মধু সেবন করা উচিত। একসাথে অনেকটা খাবেন না সমস্যা দেখা দেবে।
৮. মধু খাওয়া সবথেকে বেশি উপকারী তখনই হবে যখন হালকা গরম জলের সাথে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেতে পারবেন। এতে কোনো ক্ষতি নেই।
৯. মধু খাওয়ার পর যদি শরীরে অস্বাভাবিক কিছু না লাগে তাহলে লেবুর সাথে খেতে পারেন, এটা লাভ দায়ক। এতে অ্যাসিডিটিও কমে।
১০. মধু খাওয়ার সবথেকে ভালো সময় সকালে খালি পেটে মধু খাওয়া। এতে লিভার পরিষ্কার থাকে।

মধু খাওয়ার অপকারিতা

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে প্রমাণিত যে এই মহৌষধ উপকারী হলেও অতিরিক্ত সেবনের কারণে শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। মধুর তেমন কিছুই অপকারিতা নেই কিন্তু মধু বেশি খাওয়া ঠিক নয়। সাধারণত মধু সরাসরি মৌচাক থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। তাই এতে কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যেমন ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম থাকার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে এখন আমরা জানবো মধু কাদের খাওয়া উচিত নয় এবং খেলে কি কি ক্ষতি হতে

1. এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। শিশুরা অতিরিক্ত মধু খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অলসতা বা খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

2. প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মধু খেলে প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া বা বমির ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়াও কিছু গুরুতর উপসর্গ যেমন ঝাপসা দৃষ্টি বেশি দুর্বলতা দেখা দেবে। তাছাড়া অতিরিক্ত মধু শরীরের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

3. সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় বা গর্ভাবস্থায় থাকলে মধু খাওয়া ঠিক না। এসময় মধু থেকে বিরত থাকুন অন্যথা জটিলতার সম্ভাবনা থাকবে।

⇒ আরও জেনে নিন

তুলসী পাতা খেলে কি হয়? উপকারিতা ও অপকারিতা

নিমপাতার উপকারিতা গুনাগুন অপকারিতা

আয়ুর্বেদিক ঔষধ ব্যবহারের ও গুনাগুন

বাদামের উপকারিতা ও বাদাম খেলে কি হয়

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: